আমি আগেই বলেছিলাম—ধুরন্ধর ২ ইতিহাস তৈরি করবে। এখন যখন দেখি প্রথম দিনেই প্রায় ১৭০ কোটি রুপির মতো ওয়ার্ল্ডওয়াইড কালেকশন, তখন মনে হয়—এই কথাটা হাওয়া থেকে বলিনি।
অনেক জায়গায় কম সংখ্যা দেখায়, যেমন ১৩৯ কোটি, আবার কোথাও ৫০ কোটির মতোও লেখা থাকে। আসলে সমস্যা হলো—সব সাইট একসাথে সঠিক ডাটা পায় না। কেউ শুধু ইন্ডিয়ার নেট ইনকাম দেখায়, কেউ ওভারসিজ ধরেনা, কেউ আবার আপডেট পায় দেরিতে। এই সিনেমাটা ৬টা ভিন্ন ভাষায়, ওভারসিজ সহ রিলিজ হয়েছে—তাই পুরো হিসাবটা একসাথে ধরতে গেলে সময় লাগে।
আমি যেটা বলছিলাম সেটা একদিনের ওপেনিং না—ওভারঅল রান। এই সিনেমাটা ২০০০ কোটির উপরে যাবে। কারণ এটা একবার দেখার সিনেমা না—বারবার দেখার মতো। এই জায়গা থেকেই বলেছিলাম, দাঙ্গালের রেকর্ড ভাঙতে পারে। একদিনে না, কিন্তু লাইফটাইমে।
আরেকটা বড় ভুল অনেকেই করে—বাজেট নিয়ে। ৪৫০ কোটি খরচ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা দুইটা সিনেমা মিলিয়ে। ধুরন্ধর ২-এর বাজেট আলাদা, প্রায় ১৫০ কোটি। এখন যদি প্রথম দিনেই ১৭০ কোটি আসে, তাহলে তো বাজেট উঠেই গেছে, উল্টো প্রফিট শুরু হয়ে গেছে।
এটাই আমি বলতে চাই—যে সিনেমা একদিনেই নিজের খরচ তুলে ফেলে, সেটা নতুন ট্রেন্ড। আগে আমরা জওয়ান, অ্যানিমাল, সাইয়ারা—এইগুলাতে এই জিনিসটা দেখেছি। এগুলো ওয়ার্ল্ডওয়াইড একটা ঢেউ তৈরি করেছিল। এখন ধুরন্ধর ২ সেই ঢেউকে পেছনে ফেলে নতুন একটা ঢেউ তৈরি করতে পারে। পরে অ্যানিমাল ২ আসলে আবার নতুন কিছু হবে—বলিউড এমনই, একটার পর একটা ট্রেন্ড আসে।
কিন্তু একটা জায়গায় পার্থক্য আছে—নুয়ান্স।
অ্যানিমাল, দাঙ্গাল, সাইয়ারা—এই তিনটা সিনেমা ট্রেন্ড বানিয়েছে ঠিকই, কিন্তু লজিকের জায়গায় ফাঁক আছে।
অ্যানিমালে দেখি—রণবীর কাপুর যা খুশি করছে, পুরো সিনেমায় একটা পুলিশ অফিসার পর্যন্ত নেই। আনিল কাপুরের মতো দেখতে একজনকে বাবা বানিয়ে বসিয়ে রাখা, ত্রিপ্তি দিমরির সাথে হঠাৎ সম্পর্ক—সব কিছুই এলোমেলো লাগে। ছোট একটা ডিটেইল ধরলেও প্রশ্ন আসে—“ভাইয়া তেরে বাল কা কেয়া হুয়া”—এই ডায়লগটা যখন আসে, তার আগের রাতেই তো তার লম্বা চুল ছিল। হঠাৎ করে চুল কেটে, গোসল করে, রেডি হয়ে—এত বড় পরিবারের কেউ কিছুই দেখল না? কোনো লজিক নেই। তবুও মানুষ দেখে, ইমিটেট করে—চুল-দাড়ি বড় করে, সিগারেট খায়, অ্যাগ্রেসিভ হয়ে ওঠে। ট্রেন্ড তৈরি হয়।
দাঙ্গাল—ভালো সিনেমা, কিন্তু এখানেও লজিকের জায়গায় প্রশ্ন আছে। গীতা আর ববিতা—দুইজন রেসলারের গল্প পুরো পৃথিবীতে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে—এটা সিনেমাটিক, বাস্তব না। তবে আমির খানের ক্যারিশমা, চায়না রিলিজ—এইগুলো এটাকে বিশাল করেছে।
সাইয়ারা—এখানে আবার একদম ইমোশনাল এক্সট্রিম। একটা আলঝাইমার রোগীকে ঘিরে এত বড় প্রেমের গল্প—বাস্তবে মানুষ এমন করে না। দুদিন কাঁদে, তারপর জীবনে ফিরে যায়। আমার নিজের পরিবারেও এমন রোগ আছে, আমি কি জীবন থামিয়ে দিয়েছি? না। কিন্তু সিনেমা এটাকে বাড়িয়ে দেখায়—আর সেখান থেকেই ট্রেন্ড আসে।
এই জায়গায় ধুরন্ধর ১-২ আলাদা।
এখানে গুলি লাগলে মানুষ পড়ে। অ্যাকশনে কষ্ট দেখা যায়। ১০০ জন এসে মারছে, আর হিরো একা উড়িয়ে দিচ্ছে—এই ধরনের দৃশ্য নেই। পুলিশ, রাজনীতি—সবকিছু অনেকটা বাস্তবের কাছাকাছি। এই কারণে এটাকে কেউ সহজে উড়িয়ে দিতে পারবে না।
অনেকদিন পর বলিউডে এমন দুইটা সিনেমা এসেছে যেখানে অন্তত কিছুটা হলেও লজিক্যাল অ্যাকশন দেখা যায়। এখান থেকেই মনে হয়—এইটা নতুন ট্রেন্ড সেট করতে পারে, পুরনো ট্রেন্ড ভেঙে দিতে পারে।
আর একটা বড় জিনিস—সাউন্ড।
অ্যানিমাল, জওয়ান, ধুরন্ধর—এই তিনটার একটা কমন দিক আছে—মানুষের auditory memory ব্যবহার। এমন ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড, এমন মিউজিক, যা মাথার মধ্যে বাজতেই থাকে। দৃশ্য না থাকলেও মনে পড়ে।
আগের বলিউডে গান মানে ছিল—হিরো-হিরোইন গাইছে, নাচছে, কিন্তু কোথাও কোনো স্পিকার নেই, কোনো ইনস্ট্রুমেন্ট নেই, তবুও ১০০ জন মানুষ একসাথে নাচ জানে। যেন সবাই সুপারহিউম্যান—টেলিপ্যাথি দিয়ে নাচ শিখে ফেলেছে। হিরোর কিছু হয় না, কিন্তু ভিলেন ছুঁলেই উড়ে যায়।
এই ফর্মুলা এখন ভাঙছে।
ধুরন্ধরে এই ধরনের লিপসিঙ্ক ফালতু জিনিস নেই। অ্যানিমালেও নেই, সাইয়ারাতেও নেই। গান এখন শো না—মুড। সাউন্ড এখন স্মৃতি তৈরি করে।
এইসব মিলিয়েই মনে হয়—বলিউড একটা নতুন দিকে যাচ্ছে।
আমি যা দেখছি, সেটা আমি একা না—অনেক দর্শকই কমবেশি বুঝতে পারছে। শুধু সবাই একভাবে বলতে পারে না।
আর হ্যাঁ, জওয়ান—ওটার কথাও বলতে হয়। পুরো ইন্ডিয়ার ভোটিং মেশিন চুরি করে জেলে নিয়ে গেল, আর লোকাল থানায় একটা অভিযোগ পর্যন্ত গেল না—এইটা দেখে হাসবো না কাঁদবো বুঝা যায় না।
সব মিলিয়ে—এইটাই আমার দেখা, আমার বোঝা।
আমি সিনেমা দেখি না—আমি খুঁজি, কোথায় লজিক আছে, কোথায় নেই, আর কোথা থেকে নতুন ট্রেন্ড শুরু হতে পারে।